বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন: সমাজসেবার আড়ালে সমকামিতার সিন্ডিকেট? সেবুল ও মনোয়ারার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

সিলেট/লন্ডন: বিদেশে অর্থবিত্ত আর দেশে 'স্পোর্টিং ক্লাব'—এমনই এক চাকচিক্যময় জীবনের আড়ালে ভয়াবহ এক অভিযোগ উঠেছে লন্ডন প্রবাসী সেবুল ও তার মা মনোয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে একটি বিশেষ সিন্ডিকেট পরিচালনা করে উঠতি বয়সী তরুণদের সমকামিতার পথে ঠেলে দেওয়া এবং তাদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগের তির সরাসরি 'সেবুল স্পোর্টিং ক্লাব'-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সেবুলের দিকে, যার নেপথ্যে মদদদাতা হিসেবে কাজ করছেন তার মা মনোয়ারা।

খেলার মাঠ থেকে সমকামিতার অন্ধকার জগত

সেবুল স্পোর্টিং ক্লাবের মাধ্যমে সেবুল নিজেকে তরুণদের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করলেও, পর্দার আড়ালের চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ এবং ভুক্তভোগীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সেবুল লন্ডনের অর্থবিত্তের প্রভাব খাটিয়ে সুকৌশলে গ্রামের দরিদ্র ও সাধারণ পরিবারের তরুণদের নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতেন। ক্লাবের ডিরেক্টর হওয়ার সুবাদে ফুটবল বা ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহী তরুণদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলতেন তিনি। এরপর 'রং গাই' (Wrong Guy) বা বিপথগামী চক্রের মাধ্যমে তাদের সমকামিতার ফাঁদে ফেলতেন।

অভিযোগে প্রকাশ, সেবুল নিজে এবং তার মা মনোয়ারা সম্মিলিতভাবে এই 'বশীকরণ' বা প্ররোচনার কাজটি পরিচালনা করতেন। মনোয়ারা বেগমের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত রহস্যময়। পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, মনোয়ারা শুধু ছেলের অপকর্ম ঢাকতেই নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি প্ররোচনা দিয়ে তরুণদের বিপথে চালিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

১২ বছরের দীর্ঘ নির্যাতন ও প্রতিশোধের রাজনীতি

এই ঘটনার সূত্রপাত এবং দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে এক অদ্ভুত পারিবারিক প্রতিশোধের গল্প। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, মনোয়ারার মেয়ে রুজিনা যখন জনৈক যুবকের প্রেমে পড়েন, তখন থেকেই মনোয়ারা ও সেবুলের আচরণে চরম পরিবর্তন আসে। সেই যুবককে হেনস্তা করার পাশাপাশি প্রতিশোধ নিতে মনোয়ারা অন্য এক তরুণকে সুকৌশলে সমকামিতার ফাঁদে ফেলে দেন।

বিগত ১২ বছর ধরে এই অমানবিক নির্যাতন চলে আসছে বলে অভিযোগ। তথাকথিত এই ‘নির্যাতন’ কেবল শারীরিক ছিল না, বরং ছিল চরম পর্যায়ের মানসিক নিপীড়ন। গ্রামের সহজ-সরল ছেলেদের ব্ল্যাকমেইল করে এবং অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে তারা এই নোংরা সিন্ডিকেট বড় করেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

লন্ডন প্রবাসী ও অর্থের ক্ষমতা

সেবুল একজন লন্ডন প্রবাসী হিসেবে এলাকায় বেশ প্রভাবশালী। অভিযোগ রয়েছে, তার এই অপকর্মের কথা কেউ যেন বাইরে প্রকাশ করতে না পারে, সেজন্য তিনি 'কারি কারি টাকা' বিলিয়ে মানুষের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করেন। নিজের নামে খ্যাতি প্রচার করতে এবং সমাজের প্রভাবশালী মহলে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে তিনি লন্ডনের উপার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ ব্যয় করেন।

স্থানীয় এক মুরব্বি জানান, "আমরা জানতাম সেবুল ভালো মানুষ, খেলাধুলার উন্নয়ন করছে। কিন্তু তলে তলে যে সে ছেলেদের জীবন ধ্বংস করছে, তা এখন স্পষ্ট হচ্ছে। তার মা মনোয়ারাও এই কাজে তাকে সমানভাবে সাহায্য করছেন।"

ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি

ভুক্তভোগী এক তরুণ জানিয়েছেন, "প্রথমে আমাদের অনেক আদর-যত্ন করা হতো। ক্লাবের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হতো। এরপর ধীরে ধীরে আমাদের অন্য ছেলেদের সাথে বিশেষ সখ্যতা গড়তে বাধ্য করা হতো। যারা রাজি হতো না, তাদের ওপর সেবুল ও মনোয়ারা নানাভাবে নির্যাতন চালাতেন।" ১২ বছর ধরে এই চক্রের শিকার হওয়া অনেক যুবক এখন মানসিকভাবে বিধ্বস্ত।

সামাজিক অবক্ষয় ও উদ্বেগের ছায়া

একটি সুন্দর গ্রাম্য পরিবেশে যেখানে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ অত্যন্ত প্রখর, সেখানে এ ধরণের সমকামী সিন্ডিকেটের খবর ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ এখন সেবুল স্পোর্টিং ক্লাবের কার্যক্রম নিয়ে সন্দিহান। মনোয়ারা ও সেবুলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তারা বলছেন, লন্ডনের টাকা দিয়ে মানুষকে কেনা সম্ভব হলেও পাপ ঢাকা যায় না। আজ ১২ বছর পর এই ঘটনাগুলো প্রকাশ্যে আসায় তারা অবাক ও আতঙ্কিত। বিশেষ করে 'রং গাই' বা ভুল পথে তরুণদের ঠেলে দেওয়ার এই প্রবৃত্তি যুবসমাজকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

উপসংহার

সেবুল ও মনোয়ারা কি কেবল নিজেদের ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে এই সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত—তা তদন্তের দাবি রাখে। অর্থ, ক্ষমতা আর সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে যে বিষবৃক্ষ তারা রোপণ করেছেন, তার শিকার হয়েছে অসংখ্য তরুণ প্রাণ। এখন সময়ের দাবি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন করা এবং এই ধরণের ঘৃণ্য কার্যক্রম থেকে সমাজকে রক্ষা করা।

#Sebul #Monuara #LondonProbashi #SebulSportingClub #ViralNews #Justice #SylhetScandal #BreakingNews #SocialIssues #BangladeshNews #InvestigativeJournalism #HumanRights #MoralDecay #TruthRevealed

 

Enjoyed this article? Stay informed by joining our newsletter!

Comments

You must be logged in to post a comment.

Related Articles
About Author