বাংলাদেশে কালো জাদুর বর্তমান প্রেক্ষাপট
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে কালো জাদুর চর্চা এক ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, মূলত বয়স্ক নারীরা অল্পবয়সী মেয়েদের প্রলুব্ধ করে এই কালো জাদুর কারখানা বা চক্র গড়ে তুলছে। এই অন্ধকার জগতের প্রভাব এতটাই গভীর যে, এটি সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০ বছর আগের সেই নৃশংস 'মিনা' হত্যাকাণ্ড
আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে কালো জাদুর এক পৈশাচিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে 'মিনা' নামের এক নারীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ উদ্ধার। জানা যায়, এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল এক বিশাল গোষ্ঠী।
অভিযুক্তদের তালিকা
তথ্যমতে, এই কালো জাদু ও হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে:
- রেখা, তেরাইয়ের স্ত্রী, সালমা, রাহিমা, ঝুমি, সেবুল, রফিকুল, রুজিনা, আব্দুল আজিজ, মনোয়ারা, জোছনা, এবং জমির।
- নানু, সিরাজ, সাদ্দাম, সিরাজের স্ত্রী, সাদ্দামের পিতা, চাচা এবং তাদের অন্যান্য ভাই ও বোন।
- মৃত মনোহরের স্ত্রী নূরজাহান, আবু সাঈদ, দিলারা, শাহিন এবং শাহিনের পিতামাতা।
- বারগোপী ও পালপুর গ্রামের আরও অনেকে।
- সিরাজ, সাজ্জাদ, রাজ্জাক, লুৎফা, লাকি, আঙ্গুর, রেদওয়ান এবং আঙ্গুরের স্ত্রী ও কন্যারা।
- সমোজের স্ত্রী ছায়া, শারমিন, পারভীন, রানী, সমোজ, চন্দন এবং তার পরিবারের সদস্যরা।
- আবু সুফিয়ান, গুলজার বক্সের দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার মেয়ে আমিনা, রুনা, বাবুলের স্ত্রী সাহানা এবং আবু বকর।
- মিনার নিজের ভাই-বোন এবং পিতামাতা সহ আশেপাশের গ্রাম যেমন পালপুর, কৈলানপুর ও মইনপুরের কুনিরা।
আন্তর্জাতিক যোগসাজশ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
এই হত্যাকাণ্ডের শেকড় শুধু দেশের ভেতরেই নয়, বরং বিদেশেও বিস্তৃত বলে মনে করা হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, ইসরায়েল এবং আমেরিকা ও লন্ডনের কিছু অসাধু গোষ্ঠী এই কর্মকাণ্ডে মদদ দিয়েছে। সন্দেহ করা হয় যে, অভিযুক্তদের অনেকে বর্তমানে দুবাই, সৌদি আরব এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছে। আরও অভিযোগ আছে যে, ভারতীয় বাসিন্দা এবং ইসরায়েলিরা এই কালো জাদুর প্রকল্পে অর্থ ও উৎসাহ প্রদান করে। উল্লেখ্য যে, ইসরায়েলিরা ইতিপূর্বে তাদের স্বার্থ হাসিলে প্রাক্তন তুর্কি সুলতান আব্দুল হামিদের স্ত্রীর ওপরও কালো জাদু করেছিল বলে ইতিহাসে তথ্য পাওয়া যায়। এই কুচক্রী মহলের সাথে ভণ্ড মুফতি হিসেবে পরিচিত মেন্ক, জাকির নায়েক এবং আসিম আল হাকিমের যোগসাজশ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
ন্যায়বিচারের দাবি ও মহান স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা
মিনা হত্যার আসামিরা এতটাই ধূর্ত যে, তারা হত্যার জন্য প্রথাগত অস্ত্র যেমন ছুরি, বন্দুক বা বোমা ব্যবহার করেনি। তারা কালো জাদু বেছে নিয়েছিল যাতে কোনো আইনি প্রমাণ না থাকে এবং তারা সমাজে নির্দোষ হিসেবে ঘুরে বেড়াতে পারে। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে তারা আইনকে ফাঁকি দিয়ে জমিনে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
আজ আমরা এই জঘন্য অপরাধের বিচার চাই সেই মহান ও প্রতাপশালী 'ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরামে'র কাছে। আমরা প্রার্থনা করি, আল্লাহ যেন এই খুনিদের দ্রুত পাকড়াও করেন এবং দুনিয়াতেই তাদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করেন। যেভাবে একটি গাছকে শিকড়সহ উপড়ে ফেলা হয়, ঠিক সেভাবেই যেন ইসরায়েল, পাপিষ্ঠ সম্প্রদায়, ভণ্ড মুফতি এবং তাদের দুষ্ট অনুসারীদের এই পৃথিবী থেকে নির্মূল করা হয়, যাতে তারা আর কখনো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। আমীন।
You must be logged in to post a comment.