২৭শে মার্চ, ২০২৬—যুদ্ধের ২৯তম দিন: ইরান বনাম আমেরিকা ও ইসরায়েল যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি

যুদ্ধের ২৯তম দিন: ধ্বংসস্তূপের মাঝে এক মাস

আজ ২৭শে মার্চ, ২০২৬। ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত আজ ২৯তম দিনে পদার্পণ করেছে। গত এক মাসে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি আমূল বদলে গেছে। যা শুরু হয়েছিল একটি ছোট সীমান্ত সংঘাত হিসেবে, তা এখন এক পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে।

রণক্ষেত্রের বর্তমান চিত্র

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গত রাতে ইরানের ইসফাহান এবং তেহরানের উপকণ্ঠে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোতে কয়েক দফা বিমান হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরান তাদের উন্নত 'ফাত্তাহ' হাইপারসনিক মিসাইল ব্যবহার করে ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমির একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। যুদ্ধের এই পর্যায়ে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা উভয় পক্ষের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করছে।

আমেরিকার কৌশল ও নৌ-যুদ্ধ

পারস্য উপসাগরে মার্কিন পঞ্চম নৌবহর ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডের (IRGC) তীব্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হচ্ছে। হরমোজ প্রণালী বর্তমানে আংশিক অবরুদ্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে হাহাকার শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমেরিকা তার মিত্রদের রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে ইরান দাবি করছে তারা কেবল নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করছে।

যুদ্ধের প্রধান প্রভাবসমূহ

  • জ্বালানি সংকট: বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৮০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
  • সাইবার আক্রমণ: উভয় পক্ষের সাইবার ইউনিটগুলো একে অপরের পাওয়ার গ্রিড এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় হামলা চালাচ্ছে।
  • মানবিক বিপর্যয়: লেবানন এবং সিরিয়া সীমান্তে কয়েক লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও কূটনৈতিক স্থবিরতা

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি। চীন এবং রাশিয়া সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে, অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মানবিক করিডোর তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি না হয়, তবে এই সংঘাত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের রূপ নিতে পারে।

উপসংহার

২৯তম দিনে এসেও শান্তির কোনো লক্ষণ নেই। আকাশপথে গর্জন আর মাটির নিচে বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়া সাধারণ মানুষের আর্তনাদই এখন মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তবতা। বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে বড় শক্তিগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে, যা নির্ধারণ করবে আগামীর পৃথিবীর ভাগ্য।

Enjoyed this article? Stay informed by joining our newsletter!

Comments

You must be logged in to post a comment.

Related Articles
About Author
THR
THR